01822993834, 01842993835

Tour Blog

Ridiculus sociosqu cursus neque cursus curae ante scelerisque vehicula.

Image

স্বপ্নের সাজেক ভ্রমণ

**মনস্থিরঃ
প্রথমেই নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার সাজেক ভ্রমণটি বাজেট ট্যুর হতে যাচ্ছে নাকি লাক্সারিয়াস ট্যুর।সেই অনুযায়ী প্রথমেই ভ্রমণ প্ল্যান টি করে নিন।আর যদি আমার মতো কোনো ট্যুর এজেন্সির সাথে গ্রুপ ট্যুর করতে চান তবে ফী জমা দিয়ে বিন্দাস থাকুন।
**ট্যুর ফীঃখুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর ফ্লাই ফার লেডিস গ্রুপ টিকেই আমার ভ্রমণ সঙী হিসেবে বেছে নেই।
বর্ষাকালের সাজেক দেখার ইচ্ছাতেই তাদের সাজেক ইভেন্টে নাম লিখিয়ে নেই ৫,৫০০টাকার বিনিময়ে যার বুকিং মানি ছিলো ২,৫০০টাকা এবং বাকি ৩,০০০টাকা দিতে হয় ভ্রমণের আগে আগে।ব্যস খরচ হিসেবে আমার এইটুকুই দায়িত্ব ছিলো।
**ভ্রমণ শুরুঃ
দিন-ক্ষণ অনুযায়ী ঠিক রাত ১০ঃ৩০ এর বাস ধরতে ১০ টায় ই পৌঁছে গেলাম কলাবাগানের শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে। এতো দেখি বিশাল আয়োজন! প্রায় ৩৬জনের একটি টীম পুরো বাস ভরে যাওয়া হবে সাজেক।
পরিচিত হয়ে নিলাম ফ্লাই ফার লেডিসের হোস্টদের সাথে এবং একদম সময় অনুযায়ী বাস চলা শুরু হয়ে গেল খাগড়াছড়ির শাপলা চত্ত্বরের উদ্দেশ্যে কারণ বাস ঐ পর্যন্তই যাবে।
**চলতি পথঃ
জীবনের প্রথম খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে,পাহাড়ের আঁকা-বাঁকা পথ দিয়ে বাস শোঁ শোঁ করে চলছে, যখন পাহাড়ের ঢালু পথ থেকে উপরের দিকে বাস যাচ্ছিলো আর সবাই ভয় মাখানো আনন্দে চিৎকার করছিলো
আর্মি এস্কর্টঃভোর ৬ঃ৩০এর দিকেই পৌঁছে গেলাম খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বরে, নাস্তা করেই দ্রুত "চাঁদের গাড়িতে" চড়ে বসলাম,গন্তব্য বাঘাইছড়ি,উদ্দেশ্য আর্মির এস্কর্ট ধরা।
সাজেকের উদ্দেশ্যে সকাল ৯টা ও বিকেল ৩টায় আর্মির এস্কর্ট শুরু হয়ে থাকে।আমাদের এস্কর্ট সকাল ৯টায় ছিলো।
**সাজেকের উদ্দেশ্যেঃ বাঘাইছড়িতে গাড়ি ও যাত্রীর এন্ট্রি করিয়েই রওনা সাজেকের উদ্দেশ্যে, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর দুই পাশে বিস্তৃত পাহাড়ের দৃশ্য দেখতে দেখতেই যাত্রা চলছিলো,পথিমধ্যেই ছিলো আর্মি চেকপোস্ট। আর এভাবেই দুপুর ১টার ভিতরে পৌঁছে যাই রুইলুই পাড়া তে,ইউটিউব এর হাজার ভিডিওতে দেখা কাঙ্ক্ষিত সেই সাজেক এ।
**সাজেকঃ
***৭০০-৩৫০০টাকার মধ্যে বিভিন্ন রেঞ্জে বিভিন্ন ধরনের কটেজ/রিসোর্ট আছে।
আমাদের রিসোর্ট টি ছুলো "লুসাই কটেজ"
যেহেতু এটি এজেন্সি থেকেই এরেঞ্জ ছিলো সেহেতু তাদের পছন্দের বাহবা দিতেই হয়,সুন্দর একটি কমন ব্যালকনি সহ যথেষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রুম ছিলো।
ব্যালকনি থেকে দূর-দূরান্তের পাহাড় আর মেঘের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছিলো।

***রুইলুইপাড়াতে খাবারের অনেক রেস্টুরেন্ট আছে,আমরা খেয়েছিলাম "মনপুরা রেস্টুরেন্টে "
প্রথমবার খাওয়া ব্যাম্বো চিকেন এবং কঁচি বাঁশের তরকারি,খুবই সুস্বাদু ছিলো।
২০০-২৫০টাকার মধ্যেই পেটপুরে খাওয়া যাবে।
***কিছুটা বিশ্রাম নিয়েই রওনা দেই কংলাক পাহাড় এর উদ্দেশ্যে, প্রতিটা সময়ই আমাদের সাথে "চাঁদের গাড়ি " ছিলো।পাহাড়ের পাদদেশে নামিয়ে দেয় এবং তারপর ট্রেকিং শুরু হয়। খুব উঁচু পাহাড় না হওয়ায় হালকা ট্রেকিং এই পৌঁছে যাই চূড়ায়।বিশ্রাম নিয়ে ফিরতি রওনা দেই হ্যালিপ্যাড এর জন্য,উদ্দেশ্য সূর্যাস্ত দেখা।
***সূর্যাস্ত দেখে রিসোর্ট এ ফিরে নাচ-গান ও ছোট-খাটো বারবিকিউ পার্টি করেই ঘুম কারণ সকালে সূর্যদোয় দেখার জন্য উঠতে হবে।
***ভোর ৪ঃ৩০ থেকে ৬ টা পর্যন্ত হ্যালিপ্যাডে অবস্থান করে আমরা ফিরে আসি রিসোর্টে। সকালের নাস্তা করেই ব্যাগ নিয়ে চেপে বসি গাড়িতে,উদ্দেশ্য ফিরতি খাগড়াছড়ি।
**বৌদ্ধ মন্দির ও অপরূপ সৌন্দর্যের রিসাং ঝর্নাঃ দুপুরের খাবার সেরেই আবারো চেপে বসি গাড়িতে,রেস্টুরেন্টের পাশেই ছিলো বৌদ্ধ মন্দির,ইয়া বড় একটি বৌদ্ধ মূর্তির কাজ তখনো চলছে বিধায় বাহির থেকেই দেখে রওনা দেই রিসাং ঝর্নার উদ্দেশ্যে। মনোমুগ্ধকর সেই আঁকাবাকা পথ ধরে যাচ্ছি ওহ এবার কিন্তু আমরা গাড়ির ছাদে ছিলাম কয়জন(অবশ্যই কনফিডেন্স থাকলে উঠবেন,নয়তো পথের মাঝে ভয়ে নেমে যেতে মন করবে)।ছাদ থেকে রাস্তা গুলো যেনো আরো বেশি সুন্দর লাগছিলো আর এভাবেই পৌঁছে গেলেম রিসাং এ।এবার নিচে নেমে যাওয়া ঢালু পথে ট্রেকিং শুরু,চিকন বাঁশ নিয়ে ট্রেকিং করতে করতে শুনছিলাম দূর থেকে ঝর্নার আওয়াজ আর এভাবেই পৌঁছে গেলেম ঝর্নার সিড়িতে।৮০-১০০সিড়ি পার করে রিসাং ঝর্না। ঝর্না যেনো প্রকৃতির অপরূপ এক সুন্দর প্রতীমা,স্বচ্ছ থলথলে পানি কি সুন্দর করে বেয়ে পড়ছে আর মৃদু সুর অন্যরকম অনুভূতি জোগায়।

**আলুটিলা গুহাঃ খাগড়াছড়ির অন্যতম আরেকটি স্থান হচ্ছে আলুটিলা গুহা,রিসাং ঝর্না থেকে বের হয়েই এখানে চলে আসলাম আমরা।শুরু এক পাশ থেকে গুহা পারি দিয়ে আরেক পাশের খোলা মুখের দিকে যাওয়া।অন্ধকারে মশাল জ্বালিয়ে পায়ের নিচে পাথরের উপর ঠান্ডা পানির মৃদু স্পর্শ পেতে পেতেই পারি দিলাম আলুটিলা গুহা,অনুভূতি নিজে না গিয়ে থাকলে বোঝানো মুশকিল।

**ঝুলন্ত ব্রীজ ও লোকাল বাজারঃ আলুটিলা গুহা ঘুরেই বিশ্রাম নিয়ে উঠে পড়লাম গাড়িতে, উদ্দেশ্য ঝুলন্ত ব্রীজ ও লোকাল বাজার।ঝুলন্ত ব্রীজ পৌঁছে টিকেট করে নিলাম ২০টাকা দরে।ঝুলন্ত ব্রীজ টিও সুন্দর তবে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে যাওয়ায় সেইভাবে উপভোগ করা যায়নি তবুও আমরা ব্রীজ টি পার হয়ে আশেপাশের জায়গা গুলো ঘুরে রওনা দিয়ে দিই খাগড়াছড়ির লোকাল মার্কেট যেটাকে বলে তার উদ্দেশ্যে কারন কোথাও ঘুরতে গিয়েছি সেই জায়গার লোকাল জিনিস যদি না সাথে নিতে পারি তাহলে তো ভ্রমনের ষোলকলা পূর্ন হলো না।টুকিটাকি কেনাকাটা করার পর ফিরতি রওনা রাতের খাবারের জন্য রেস্টুরেন্টের দিকে।

**রাতের ভোজন ও বাসের অপেক্ষাঃ
রেস্টুরেন্টে ফিরেই ফ্রেশ হয়ে সবাই বসে যায় খাবার খেতে,রাত ৯টায়েই ছাড়তে হবে খাগড়াছড়ি। ঢাকার উদ্দেশ্যে ৯টায়েই সব বাস ছেড়ে যায়।

*** রাতের খাবারে ছিলো ভাপা ডিম,কঁচি বাশের ভুনা,ডাল এবং বিভিন্ন পদের আরো সবজি।একটার চেয়ে একটা রান্না মজা আসলেই পাহাড়ি রান্না বলে কথা।
***খাবার সেরে বিশ্রাম নিতে নিতেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসে পড়ে,২রাত পর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার জন্য বাসে চেপে বসি।শেষ হয়ে গেলো অপরূপ সৌন্দর্যের সাজেক ভ্রমণ সাথে খাগড়াছড়ির নিস্তব্ধতাকে গাড়ির ছাদে বসে উপভোগ করা,মানতেই হবে আমি আমার জীবনের অন্যতম একটি অনূভুতি নিয়ে ঢাকা ফিরছিলাম।

***আমি ফ্লাই ফার লেডিসের কাছে কৃতজ্ঞ যে এই খরচে আমাকে এত গোছালো সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ দিয়েছে*** 
Read more
Image

Tour de Meghalaya

Hello

Read more
Image

Tour de Meghalaya

abc

Read more